পাবনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

46
পাবনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর পাবনার সহকারী পরিচালক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লক্ষলক্ষ টাকা ‘মাসোহারা’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ পাবনার ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, পাবনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে আব্দুস সালাম সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন ব্রেড ফ্যাক্টরি, চানাচুর কারখানা, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, রেস্তরা, বেকারি, সেমাই কারখানা ও যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরির কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাসিক চুক্তিতে দশ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকাও মাসোহারা নেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহার বাড়ী পাবনা হওয়ায় তার নাম ব্যবহার করেও মাসোহারা আদায় করেন।

তারা আরও জানান, আব্দুস সালাম ব্যবসায়ীদের অফিসে ডেকে এনে জরিমানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীলগালার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করেন। তার চাহিদা পূরণ না হলেই ওই প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান অভিযানসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করেন।

এছাড়াও প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনি শহরের গাছপাড়া এলাকায় আরিফ নামের যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি কারখানার মালিকের সাথে মদ্যপানসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হন। প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ওই অফিস থেকে রাতে আব্দুস সালামকে বের হতে দেখেন।

তবে আব্দুস সালামের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকলেও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবী করেছেন অভিযুক্ত যৌন উত্তেজক সিরাপ ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম।

পাবনার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন আব্দুস সালামের এসব অপকর্মের বিষয়ে প্রতিবাদ করেও কোন ফল পাননি। সালামে চাহিদা মেটাতে না পেরে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে বলেও জানান ব্যবসায়ী নেতারা।

সম্প্রতি শহরের বাইপাস এলাকার একটি সেমাই কারখানা থেকে তিনি দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। চাঁদা না পেয়ে পরদিন গিয়ে ওই কোম্পানি সিলগালা এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেন। ফলে ওই কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন মালিকপক্ষ।

এ বিষয়ে পাবনার চারতলা এলাকা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলী মৃধা ক্ষোভের সাথে জানান, আব্দুস সালামের কারণে এখন ব্যবসা পরিচালনা করাই দূরহ হয়ে পরেছে। তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে ব্যবসার পুঁজি হারানোর উপক্রম হয়েছে। যারা সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করেন তাদের কাছে আব্দুস সালাম এখন মূর্তিমান আতংক।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর পাবনার সহকারী পরিচালক আব্দুস সালামের দেশের বাড়ী চুয়াডাঙ্গায়। গত দুই বছরে চাঁদাবাজির টাকায় কুষ্টিয়া এবং চুয়াডাঙ্গায় নামে বেনামে শতাধিক বিঘা জমি কিনেছেন। এ ছাড়া ঢাকার উত্তরার ১১ নং সেক্টরের দুইটি ফ্লাট কিনেছেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে পাবনা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রিজের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী মূর্তজা বিশ্বাস সনি বলেন, আব্দুস সালামের চাঁদাবাজির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। এরপরও তার বেপরোয়া আচরণের কোন পরিবর্তন হয়নি।

এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর পাবনার সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের অনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দেয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন, এসব সঠিক নয়।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here