ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিংয়ের নামে কোটি টাকা নিয়ে উধাও মিনার রায়হান

153
মো. মিনারুল ইসলাম ওরফে মিনার রায়হান রায়
মো. মিনারুল ইসলাম ওরফে মিনার রায়হান রায়

যশোরের ছেলে মো. মিনারুল ইসলাম ওরফে মিনার রায়হান রায়। কাজের খোঁজে যশোর ছেড়ে এসেছিলেন বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে। রাজশাহী ও যশোরে সে নানান ধরনের প্রতারণা, ট্রেনিং সেন্টারের নামে নারীদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানি, ফ্রিল্যান্সং শেখানোর নামে ও অনলাইনে দ্বিগুণ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিনার রায়হান রায় রাজশাহীতে এসে ওঠেন পবা উপজেলার সপুরা গ্রামে। সেখানের স্থানীয় একজনের পরামর্শে আইটি ট্রেনিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ট্রেনিং শেষে নিজ উদ্যোগে রাজশাহীতে একটি ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং প্রতিষ্ঠান চালু করেন। যোগ্য শিক্ষক না থাকলেও তার সহধর্মিণী মিনার আয়েশাকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী থেকে ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিংয়ের নামে ১০ হাজার করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থান পরিবর্তন করে রাজশাহীতে বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তার বিরুদ্ধে পবা ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন থানায় ভুক্তভুগি একাধিক জিডি করেছেন। এরপর সে রাজশাহী থেকে পালিয়ে নিজ জেলা যশোরে চলে যান।

রাজশাহীতে প্রতারণা কাণ্ড করে যশোরে এসে সে ভিন্ন ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত হয়। অনলাইনে জুয়া সাইটের জন্য টাকা নিয়ে দ্বিগুণ টাকা ফেরতের কথা বলে অনেকের থেকে টাকা নিয়েছেন। প্রথমে টাকা ফেরত দিলেও পরে অনেকের টাকা নিয়ে তিনি গা ঢাকা দেন।

এছাড়া রাজশাহীর মতো যশোরেও ফ্রিল্যান্সিং শেখানোর নামে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন যশোরের ছেলে কাজী হাকিম আব্রার ও রবিউল ইসলাম রুবেল। যশোর সদরের হৈবতপুর, বাড়িনগরে বাবার পরিবারের সাথে থেকে এই প্রতারণার কাজ করে যাচ্ছে।

টাকা আত্মসাৎ ছাড়াও ট্রেনিং সেন্টারে নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি করারও একাধিক অভিযোগ রয়েছে মিনারের বিরুদ্ধে। একজন নারীর অনৈতিক ভিডিও করে সেটা অনলাইনে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়ার অভিযোগের বিষয়টিও যশোর থানায় লিখিত অভিযোগ এসেছে।

প্রতারণার অভিযোগে মো. মিনারুল ইসলাম ওরফে মিনার রায়হান রায় এবং পিতা মো. জাকির হোসেনের নামে ৪২০ ধারায় প্রতারণা মামলা হয়েছে। মামলা ছাড়াও একাধিক সাধারণ ডায়েরি রয়েছে তার নামে। যশোর পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মিনার রায়হানকে গ্রেফতার করার জন্য আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। শিগগির আমরা তাকে গ্রেফতার করতে পারবো।

এ বিষয়ে জানতে মিনার রায়হান রায়ের সেল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাকে এসএমএস করে কমেন্ট নেয়ার জন্য বলা হলেও তিনি রিপ্লাই করেননি।

আরও পড়ুন-
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নতুন প্রতারক আমান উল্লাহ চৌধুরী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here