পাতাল রেল কি যাত্রী দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমাতে পারবে?

272
পাতাল রেল কি যাত্রী দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমাতে পারবে?
পাতাল রেল কি যাত্রী দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমাতে পারবে?

মো: গোলাম সারোয়ার সাইমুম: মাত্র কিছুদিন আগে পড়ালেখার কোনো এক কাজে রংপুর বিভাগীয় শহরে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে তিন চাকার অটোরিকশাতে করে ফিরছিলাম। অথচ তিন চাকার যানবাহন কিন্তু প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ। কিন্তু কেন আমাকে ওগুলোর একটাতে চড়তে হলো? প্রধান কারণ হতে পারে জনসংখ্যা বেশি ফলে বাস সংকট। অথবা বাস থাকা সত্ত্বেও বাসে উঠতে পারি না কারণ আমি অল্প দূরত্ব(১৬ কিলোমিটার) যাবো আর বাস চালকরা আমার মত খুচরা পয়সা বাসে তোলেন না বা তুলতে চান না। আর যখন কোনো দয়ালু বাস চালক আমাদেরকে বাসে ওঠার জন্য অনুমতি দেন বা “অমুক জায়গায় বাস থামবে না বা যাত্রী তুলবেন না” বলেন না তখন বিষয়টি আলাদা ব্যাপার। নতুন কিছু সরকারি বাস সেবা চালু হয়ে কিছুটা দুর্ভোগ কমেছে। যদিও বা সেটা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য এবং রেঞ্জ ও সীমিত। শেষ পর্যন্ত তিন চাকার যানবাহনে চড়তেই হয়। পুরো চিত্রটা অনেক বাজে এবং জটিল এবং এই সামান্য লেখায় সেটা বোঝানোও অনেক কঠিন তাই দয়া করে আমিসহ অন্য লাখ লাখ মানুষকে কেন নিষিদ্ধ যানবাহনে চড়তে হয় সেটা সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

সেদিন, অটোরিকশায় যাওয়ার সময় কোনো এক যাত্রী নেমে যাবেন, তাই চালক রিকশাটি দাঁড় করালেন। কিন্তু রাস্তার পার্শ্বে দাঁড় না করিয়ে রাস্তায় দাঁড় করালেন। পার্শ্বে দাঁড় করার কথা বলবো বলে ভাবছি এই সময় একটি বাস আরেকটি বাসকে খুব দ্রুতগতিতে ওভারটেক করলো। দুই লেনের রাস্তা ফলে দুইটা বাসেই একসাথে ওভারটেক করতে গেলে পুরো রাস্তায় যেন আর জায়গা পাওয়া যায় না। আমাদের অটোরিকশা সামনেই ছিল ফলে একটা বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। আমি দেখলাম আমার মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূর দিয়ে ওভারটেক করতে থাকা বাসটি চলে গেলো। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম। পরে চালককে সামান্য কিছু কটু কথা বললেন চালকের পাশে থাকা এক ভাই। কিন্তু এতে কোনো ফল হলো বলে মনে হলো না। এভাবেই ঘটনা শেষ হয়ে গেলো। এটাকে বলতে চাই বিপদজনক ভাবে চলাফেরা করা। কিন্তু আমরা কেন এভাবে চলাফেরা করবো? কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কি?

এটা শুধু যে এই ঘটনায় সীমাবদ্ধ সেটা না। এরকম অনেক ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়ত। মানুষ আহত হয়, বিকলাঙ্গ হয়ে যায় আবার অনেক সময় মারাও যায়। কিন্তু এমন অবস্থা আমাদের যে এরকম অনেক ঘটনারই কোনো খবর প্রকাশ হয় না বা কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হয় না। তবুও শেষ কবে বা কোন দিন দেশের খবর শুনেছিলেন বা পড়েছিলেন অথচ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর শোনেননি? অন্তত আমার এরকম দিন খুব কমই মনে পরে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

স্রষ্টা যার যেখানে যে সময়ে মৃত্যু রেখেছেন সেখানেই হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা তো সেই স্থান বা সেই সময় জানি না, জানি কি? উন্নত রাষ্ট্র গুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খুব কমই খবর পাওয়া যায়। স্রষ্টা কী শুধু আমাদের উপর গজব দিয়ে উন্নত রাষ্ট্র গুলোতে রহমত দিয়েছেন? নাকি তারা স্রষ্টার সর্বজনীন নিয়মানুসারে সাবধানতা অবলম্বন করে আর আমরা করিনা? নাকি তারা স্রষ্টার সর্বজনীন নিয়মানুসারে দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে বা ঘটলেও যাতে সেটার ক্ষয়ক্ষতি যাতে কমানো যায় সে চেষ্টা করেন? আর আমরা কেন চেষ্টা করিনা? কোনো জায়গায় স্রষ্টার কথা বলতে বা তুলতে ভয় লাগে কখন যে মূর্খতার কারণে স্রষ্টার প্রশংসা না করে উল্টোটা করে ফেলি অজান্তেই।

উন্নত দেশের নগরায়ন এবং শিল্পায়ন পর্যবেক্ষণ করে বলছি, বাংলাদেশে এই বিশাল জনসংখ্যার যাতায়াতের জন্য সারাদেশে পাতাল রেল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তবে সেই ব্রিটিশ আমলের রেল চলাচলের ম্যাপ দিয়ে কাজ হবে না। সারাদেশে পাতাল রেল চলাচলের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রয়োজন বাসের প্রতিস্থাপন হিসেবে। কারণ এত জনসংখ্যার যাতায়াত ব্যবস্থা বাস হলে সেটা না হবে পরিবেশের জন্য ভালো, না হবে জনস্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সেটা হবে শুধুমাত্র জীবনের হুমকি স্বরূপ। দুর্ঘটনার সংখ্যা সহজে কমানো কঠিন হবে বা অসম্ভবের মত হয়ে দাঁড়াবে। দিন শেষে খবরে কারো ভাই-বোন, কারো সন্তান, কারো মা-বাবার মৃত্যুর খবর দেখতে হতে পারে। বর্তমানে দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে আমরা যেন স্বাভাবিক হিসেবে নিয়েছি, তাই নয় কি? সেটা না হলে তো দুর্ঘটনা যাতে কমানো যায় সেটার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং সর্বাধুনিক পরিকল্পনা এত দিনে নিয়েই নিতাম। অনেকেই বলে থাকেন তিন চাকার যানবাহনের জন্য আপাতত প্রধান সড়কের পাশ দিয়ে রাস্তা করে দেওয়া যেতে পারে কেননা তারা “নেসেসারি ইভিল” হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদেশে লাখ লাখ লোক ওই নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহন চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করছেন।

মানুষের মহাকাশ গবেষণা প্রয়োজন এবং ভ্রমণ করা প্রয়োজন। আরো প্রয়োজন বাসযোগ্য অন্য গ্রহ খুঁজে বের করার। এর জন্য প্রয়োজন সহজ কোনো উপায়ে যাতে মহাকাশে যাওয়া যায় সে ব্যবস্থার। এগুলো নিয়ে ভাবতাম অনেক আগে থেকেই। নিজের ভাবনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম এবং একটা পর্যায়ে পৌঁছে ধৈর্য্য ধারণ করতে হয়েছে। কারণ এক্সপেরিমেন্ট করা ছাড়া সেই পর্যায় অতিক্রম করা কষ্টকর।

ভাসমান ট্রেন এর কথা চিন্তা করতাম আগে। স্যাররা সব সময়েই অনেক অনুপ্রেরণা জাগানো কথা বলতেন এবং এখনও বলেন। আমার কলেজের এক শ্রদ্ধেয় স্যার সেরকম কথা বলেছিলেন এবং সৃজনশীল কোনো চিন্তাভাবনা থাকলে তাকে বলার কথা বলেছিলাম। তাই আমি একটা পরিকল্পনা তাকে লিখে এবং নকশা করে দেই। ২০১৯ সালের ঘটনা এটি কিন্তু সেই পরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনা ছিল তারও অনেক আগের। নকশাটি ছিল ভাসমান ট্রেনের। একটা ট্রেন কিভাবে ভেসে থাকবে? চুম্বক দিয়ে ছোটবেলায় খেলা করতাম। বিপরীত মেরু আকর্ষণ করে আর একই মেরু বিকর্ষণ করে এটা সবারই জানা। পরিকল্পনা বা নকশাটির প্রধান বিষয়টিই ছিল এটাকে কাজে লাগানো এবং সেভাবে ভারসাম্য রক্ষা করে ট্রেন এর নকশা করা। স্যারকে কোনো রকমে একটা নকশা তৈরি করে দিয়েছিলাম এবং কাজটি অনেক কঠিন ছিল। আর স্যারকে পরিকল্পনাটিও পূর্ণাঙ্গ করে দেওয়ার সুযোগ হয়নি। কারণ এগুলো বোঝানোর ক্ষেত্রে কম্পিউটার গ্রাফিক্স সবচেয়ে ভালো উপায় হতে পারে। একেবারে 3D গ্রাফিক্স তৈরি করে দেখিয়ে দেওয়া। কিন্তু সেই সুযোগ সুবিধা এখনো নেই।

মূল পরিকল্পনাটি হলো প্লানেটরি ম্যাগনেটিক ভ্যাকিউম টানেলের। পৃথিবীর মুক্তিবেগ হচ্ছে ১১.২ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড। অর্থাৎ কোনো বস্তুকে যদি প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কি.মি. গতিবেগে ওপরের দিকে নিক্ষেপ করতে পারা যায় তাহলে সেটি মহাশূন্যে চলে যাবে। উদাহরণ হিসেবে ভাসমান ট্রেনকেই নিলাম। তত্ত্ব অনুসারে, সঠিক পদ্ধতিতে যেকোনো কিছুকেই নিক্ষেপ করা যাবে। ধরি পুরো পৃথিবীতে ভাসমান ট্রেন এর একটা টানেল করা হলো এবং এর লঞ্চার পয়েন্ট হলো এভারেস্ট এর চূড়োয়। পুরো পৃথিবী কারণ নির্দিষ্ট বেগ পেতে হলে অনেক সময় আর বিশাল দূরত্বের রানওয়ে লাগবে। আর ভাসমান ট্রেন এর যে টানেলটি থাকবে সেটা বায়ুশূন্য করা থাকবে। যাতে ট্রেনটির বেগ বায়ুর কারণে বাঁধাগ্রস্ত না হয়। ম্যাগনেটিক পুশ বা অন্য যেকোনো ভাবে ট্রেন কে গতিশীল করার ব্যবস্থা করা যাবে। প্রয়োজনীয় বেগ অর্জন হলেই এভারেস্ট এর চূড়োয় থাকা লঞ্চার পয়েন্ট দিয়ে তত্ত্ব অনুসারে মহাশূন্যে পাঠানো যাবে।

মাত্র কিছুদিন আগে খবরের অনলাইন পত্রিকায় দেখলাম চীনে এই প্রযুক্তির ট্রেনের কথা লেখা। তাও আবার খুবই দ্রুত গতির। তাই আগের চিন্তা গুলো আবার মনে পড়লো এবং নিজের দেশের কথা মাথায় আসলো। যদি এটা করা যায় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যাবে এবং এটা বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য একটা চূড়ান্ত লিপ ফ্রগ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। কিন্তু অনেকেই এখন বলবে বিশাল অঙ্কের টাকার কথা। সেটা স্বাভাবিক ভাবেই একটা প্রতিবন্ধকতা আমাদের জন্য। কিন্তু চেষ্টা তো করাই যেতে পারে। আর দুর্ঘটনাগুলোয় প্রতিনিয়ত যেভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত সেটা খুবই দুঃখজনক। আমরা মানুষের জীবন রক্ষার চেষ্টা না করলে কিসের চেষ্টা করবো?

মো: গোলাম সারোয়ার সাইমুম, রংপুর সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত, শলেয়াশা, লালচাঁদপুর, খলেয়া, রংপুর সদর, রংপুর

আরও পড়ুন-

কীর্তিমানদের বই এবারও উপেক্ষিত থাকবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here