বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড নিয়ে মেম্বার ও সাংবাদিকদের তীব্র ক্ষোভ

582
বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড নিয়ে মেম্বার ও সাংবাদিকদের তীব্র ক্ষোভ
বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড নিয়ে মেম্বার ও সাংবাদিকদের তীব্র ক্ষোভ

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আয়োজিত বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড নিয়ে সদস্য ও তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) হোটেল রেডিসনে বেসিসের আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বেসিসের বেশিরভাগ সদস্য ও সাংবাদিকদেরকে আমন্ত্রণ না দেওয়াতে এ ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এই অনুষ্ঠানের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেসিসের সদস্যরা তুমুল ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বেসিস সদস্য লিয়াকত হোসাইন লেখেন, ‘যেখানে নির্বাচন এবং এজিএম করা যাচ্ছে না, সেখানে এই পরিস্থিতিতে কেন বেসিসের এই আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান করতে হল?’ তিনি আরও বলেন, ‘সদস্যদের সংগঠনে সদস্যদের ছাড়া কিভাবে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায় তা বোধগম্য নয়’।

বেসিস সদস্য আবুল কাশেম লেখেন, এই আয়োজন এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হল কেন? আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি কি পেল এবং আমরা কি পেলাম এই আয়োজন থেকে? তিনি বেসিস প্রেসিডেন্টের কাছে প্রশ্ন তোলেন, কেন অ্যাসোসিয়েট থেকে কো-অফট করা অনভিজ্ঞ এবং জুনিয়র একজনকে এই ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করার দায়িত্ব দেওয়া হল। বেসিসের আরেক সদস্য এম রাশেদুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, ‘বেসিস মেম্বাররা কি দোষ করল? তারা কি অনলাইনে আমন্ত্রণ পাবারও যোগ্য নয়?’

বেসিস সদস্য হাবিবুল্লাহ তুহিন লেখেন, ‘নির্বাচনের তারিখ পার হয়ে গেছে কিন্তু নির্বাচনের কোন খবর নাই, আবার পাঁচ তারকা হোটেলে মেম্বারদেরকে বাদ দিয়ে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান, এ যেন মগের মুল্লুক!’ আগামী নির্বাচনে ভোটাররা তাদের ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দিবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বেসিস সদস্য ফকরুল হাসান শামিম লেখেন, ‘এখনই এই ইসি কমিটিকে বয়কট করা উচিৎ। অতিদ্রুত নির্বাচন দিতে হবে’। এছাড়া আরও অনেকেই বেসিসের কিছু ইসি সদস্যদের টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বেসিসের আরেক সদস্য রেজওয়ানা খান লেখেন, ‘বেসিসের ইসি কমিটি বেসিসের সদস্য, নির্বাচন এবং তাদের ভোটের অধিকারকে তোয়াক্কা করছে না’। বেসিস সদস্য রিয়াজুল করিম রিয়াজ লেখেন, ‘বেসিসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজেক্টের পিডিদেরকে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে ঐসকল প্রজেক্টের ইসি সদস্যদের কারো কারো প্রজেক্ট সাবমিট করা আছে’।

বেসিসের আরেক সদস্য আশরাফুল কবির জুয়েল লেখেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সদস্যপদ আছে কিনা’। বেসিস সদস্য লায়ন ইয়সুফ খান লেখেন, ‘কিছু ইসি সদস্যদের জন্য বেসিসের মধ্যে একটি বিভেধ তৈরি হয়ে আছে। সদস্যরা কেন বার্ষিক চাঁদা দিবেন তা তার বোধগম্য নয়’। বেসিস সদস্য বিল রাসেল লেখেন, ‘এই স্বৈরাচার কবে দূর হবে?’ বেসিস সদস্য বেলাল হোসেন মুন্না লেখেন, ‘যা ইচ্ছা তা হচ্ছে বেসিসে’।

বেসিস সদস্য মাহবুবুর রহমান বেসিসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজেক্টের পিডিদেরকে আমন্ত্রণ জানানোর তীব্র নিন্দা করেন। বেসিস সদস্য নাজিফা আহমেদ চৌধুরী বেসিস ইসিতে তরুণদের অন্তর্ভুক্তি বেসিসের পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বেসিস সদস্য সাকিফ আহমেদ লেখেন, ‘নিজেদের সংগঠনে নিজেরাই দাওয়াত পেলাম না এটা আসলেই লজ্জাজনক’। বেসিস সদস্য এমডি মাহবুব হাসান জানতে চান, একশত ৩০ জনের এই অনুষ্ঠানের বাজেট কত ছিল?

বেসিসের আরেক সদস্য ফজলুল হক লেখেন, বেসিসের মালিক বেসিস সদস্য। মালিকদের বাদ দিয়ে অন্য লোক দাওয়াত করে পুরস্কার বিতরণ করা মালিকদের সাথে প্রতারণা এবং অপমান করা। এই অনুষ্ঠানটি সদস্যদের স্বার্থে করা হয়নি, কমিটির নিজেদের স্বার্থে করা হয়েছে’।

অনেক সদস্যরা বেসিসের অনুষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন প্রজেক্টের পিডিদেরকে আমন্ত্রণ করার তীব্র নিন্দা জানান। বেসিসের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে পিডিদের দাওয়াত করে সেই সকল পিডিদের অধীনে বিভিন্ন প্রকল্পে কিছু ইসি মেম্বারের টেন্ডার সাবমিশনকে তারা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক কাজ বলে মন্তব্য করেন।

এছাড়াও আইসিটি সাংবাদিকদেরকে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোয় বেসিস সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য যে, বেসিসের সব ধরণের অনুষ্ঠানকে বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে আইসিটি সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের (বিআইজেএফ)।

আরও পড়ুন-
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নতুন প্রতারক আমান উল্লাহ চৌধুরী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here