সুপ্রীম কোর্টের সাহেদ ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান ও এডঃ মনিরুজ্জামান

280
ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান
ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান

চারিদিকে যেভাবে সাহেদ রুপি হায়েনাদের বিচরণ শুরু হয়েছে সে হিসাবে মানুষের শেষ ভরাস স্থল হলো কোর্ট, যেখানে মানুষ ন্যায় বিচারের আশায় আসে। যাদের মাধ্যমে ন্যায় বিচারের যোগসূত্র স্থাপিত হয় সেই আইনজীবীদের মধ্যেই এক রাঘব বোয়ালের সন্ধান পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারা বাংলাদেশে এক সময়ের প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানি তালুকদার লাইট কাস্টিং, প্লাস্টিক শিল্পের এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ২০১৩ সালে ওই গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে ব্যাংকের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে পারে নাই।

ফলশ্রুতিতে প্রাইম ব্যাংক, যশোর শাখা প্রথম যুগ্ম জেলা জজ বরাবর দুইটি অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। মামলা নং ৩০/২০১৬এবং ৩১/ ২০১৬। প্রাইম ব্যাংক লি: মামলা দুইটি একতরফা রায় এবং ডিক্রী কার্যকর করার জন্য যশোর অর্থঋণ আদালতে আরও দুইটি অর্থজারী মামলা করে, যার নম্বর ০৮/২০১৭ এবং ০৯/২০১৭। তালুকদার গ্রুপের একমাত্র লাভজনক সহযোগী প্রতিষ্ঠান তালুকদার লাইট কাস্টিং যশোর সদরের রামনগর মৌজার ১১৭ শতাংশ জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত যা অর্থ জারী মামলা ০৯/২০১৭ এর “বি-১” তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি।

যশোর আদালতের আলোকে উক্ত সম্পত্তি প্রাইম ব্যাংক নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়, আদালত সূত্রে জানা যায় উক্ত নিলামের বিরুদ্ধে বিবাদী বিগত ১০.০৭.২০১৭ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন মামলা করে, যার নম্বর ৯৬৬৬/২০১৭। যার ফলে নিলামটি মহামান্য স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষে আইনজীবী হিসাবে নিয়োগ পান ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান ও তার আরেক ভাই এডভোকেট মনিরুজ্জামান। তালুকদার লাইট কাস্টিং এর সম্পত্তিটি ভৌগলিক কারণে খুবই মূল্যবান কারণ একদিকে যশোর খুলনা মহাসড়কে পাশে, অন্যদিকে যশোর–মনিরামপুর সড়কে পাশে অবস্থিত।

এই সম্পত্তিটির পাশেই ব্যাংকের আইনজীবী দুই ভাইয়ের বাড়ি হওয়াতে এই সম্পত্তির দিকে তাদের চোখ পড়ে যায়। আইনজীবীদের আরেক ভাই প্রাইম ব্যাংক যশোর শাখায় চাকরি করার কারণে ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা যোগসাজসে একতরফাভাবে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে সম্পত্তিটি নামমাত্র নিলামের ব্যবস্থা করে।

এই লোক দেখানো নিলামে ব্যাংকের পক্ষে এই মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান “বি.কে. ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড” নামে নামমাত্র মূল্যে তিন কোটি দশ লক্ষ টাকায় এই সম্পত্তি ক্রয় করে।

অথচ ২০১৩ সালে প্রাইম ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত জরিপ ও পরিদর্শন নামে ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট অনুসারে মার্কেট ভ্যালু ৬.৬৩ কোটি টাকা যা স্যাংশন লেটারে উল্লেখ থাকার পরও বর্তমান বাজার মূল্যে ১৫ কোটি টাকার সম্পত্তি ৩.১০ কোটি টাকায় বি.কে. ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামে প্রাইম ব্যাংক প্রত্যায়ন পত্র ও দখল প্রদান করে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সূত্রে জানা যায় যে, গত ২৮ অক্টোবর সামসুল আরিফিন নামে একটি অভিযোগ ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান ও তার ভাই এডভোকেট মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অধ্যাদেশ ১৯৭২ এর পেশাগত আচরণবিধি ও নিয়মানুবর্তিতার দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৫নং ও ৬নং বিধির পরিপন্থী কার্যক্রমের অভিযোগে তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় যে প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড ও প্রাইম ফাইনান্স লিমিটেডের বিনিয়োগকারী অনেক প্রতিষ্ঠান যাদের সাথে ব্যাংকের আইনি জটিলতা বিদ্যমান সেই সব মামলায় ব্যাংকের সাথে উচ্চহারে কমিশন ভিত্তিক চুক্তি করে ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান বিভিন্নভাবে অনৈতিক চাপ প্রভাব প্রয়োগ করে অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তিগুলো ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের নামে ক্রয় করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করায় ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান এ পেশায় পরিণত হয়েছে। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে অনেক ব্যবসায়ী, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বেকার হচ্ছে অনেক শ্রমিক। যা একজন সিনিয়র আইনজীবীর কাজ থেকে এ দেশের জনগণ আশা করে না।

আরও পড়ুন- ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিংয়ের নামে কোটি টাকা নিয়ে উধাও মিনার রায়হান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here