ঈশ্বরদী থানা: এক কিশোরকে ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ

518
ঈশ্বরদী থানা: এক কিশোরকে ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ
ঈশ্বরদী থানা: এক কিশোরকে ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ

আব্বাস ফারুকী, ঈশ্বরদী, পাবনা: টাকা না দেয়ায় নারী নির্যাতন মামলায় ১৮ বছরের এক কিশোরকে ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঈশ্বরদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বাদীপক্ষের থেকে টাকা নিয়ে এবং রাজশাহী রেঞ্জের এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার চাপে পড়ে একটি মামলা সাজানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঈশ্বরদী দাশুড়িয়ার বাজার পারা এলাকার মেরিদুল ইসলাম এর মেয়ে আনিকা তাহসিন অহনার সাথে বেশ কিছুদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই এলাকার মুকুল হোসেনের ছেলে মেহেদীর হাসানের সাথে। ঈদের দিন ১৪ মে সকালে ঘুরতে যাবার নাম করে তারা পালিয়ে যায়। মেয়ের পরিবার থেকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে ঈশ্বরদী সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে মেয়ের পরিবার। এর পরই পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে।

কাউকে আটক করতে না পেরে ৪ দিন পর গত ১৭ মে মধ্য রাতে ছেলের পরিচিত একই এলাকার মো. অভি নামের এক কিশোরকে ভোর রাতে বাড়ি থেকে তুলে আনে পুলিশ। অভির বাবা সানা মিয়ার অভিযোগ, তার পরিবারের সাথে পূর্ব শত্রুতার জেরে পুলিশ কে টাকা খাইয়ে এই ঘটনা ঘটায় মেয়ের চাচা মোঃ শিপন।

এছাড়া এ ঘটনায় মামলা নেয়ার জন্য চাপ দেয় পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের এক কর্মকর্তা। এরপর গত ১৯ মে মামলার চার্জ গঠন করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। অভিকে ১৭ মে তুলে এনে বেআইনি ভাবে ৪৮ ঘণ্টা থানায় আটকে রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে এই মামলা দায়ের হয়। যার মামলা নম্বর ৪০।

এর পরই অভির পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নুরুল হুদা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের নির্দেশ এই টাকা দাবি করা হয়। টাকা দেয়া হলে বাদীকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানায় তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় অভির পরিবার কিছু টাকা দিতে রাজি হলেও ৫ লাখ টাকা দিতে না পারায় এই মামলার ৬ নম্বর আসামি বানিয়ে তাকে কোর্টে চালান করে দেয় পুলিশ।

অভির বাবা সানা মিয়ার দাবী, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার নির্দোষ ছেলেকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এলাকার এক ছেলে প্রেম করে মেয়ে নিয়ে পালিয়েছে। এখন মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে আমার ছেলেকে এই মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। এবং আমার ছেলের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

ছেলের মা মোছা: রাবেয়া খাতুন বলেন, আমার ছেলে দোষী হলে আমি অবশ্যই তার শাস্তি চাই। কিন্তু টাকার জন্য কেন এমন করা হবে ? আমরা টাকা দিতে সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু তা না করে তাকে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হলো । জোর করে স্বীকারোক্তি নেয়া হলো। এখন আমি সমাজে মুখ দেখাবো কি করে। আমার সন্তানের গায়ে যে দাগ দেয়া হলো এর দায় কে নেবে?

অভির আইনজীবী বলেন, এই মামলায় কোনভাবেই অভিকে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই। আসামির পরিচিত অভি যিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না এবং এই ঘটনায় যার কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে এই মামলায় কেন জড়ানো হবে।

এ বিষয়ে মেয়ের বাবার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। কিন্তু এজাহারে বলেন, ঈদের দিন সকালে তার বাড়িতে প্রাইভেটকার এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে জোর করে তাদের মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। এবং তার মেয়েকে দিয়ে অনৈতিক কাজ করানো হচ্ছে। যদিও এলাকার কয়েকটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাতে দেখা গেছে ঈদের দিন সকালে মেয়ে অহনা নিজে বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যাচ্ছে। বাড়ির সামনে কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেল ছিলনা। তবে তার মেয়ে অহনাকে দিয়ে কি অনৈতিক কাজ করানো হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো উত্তর দিতে পারেননি মেয়ের বাবা মেরাদুল।

মেয়ের চাচা মো. শিপন এর দাবি, আমাদের মেয়ে পালিয়ে যায়নি তাকে জোর করে তুলে নেয়া হয়েছে। আর পালাতে সহায়তা করেছে অভি ও আরো কয়েকজন। তাই তাকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোথায় কিভাবে কখন অপহরণ করা হয়েছে সে বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য জানতে পারেনি শিপন।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক করা হয়েছে । কোনো টাকার বিনিময়ে বা চাপে পরে নয়। মেয়েকে উদ্ধার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ১৪ মে ঈদের দিন ঘটলেও মামলা হয় তার ছয় দিন পরে। আর এর দুইদিন আগে ১৭ মে অভিকে তুলে এনে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা থানায় জোর করে আটকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। পরে টাকা না দেয়ায় আসামিদের পরিবারের সামনেই মামলায় নাম ঢোকানো হয় অভির। এ ঘটনায় অভি তার পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভির বাবা সানা মিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here